বর্ষায় নিরাপদ পাহাড় ভ্রমণে যা করবেন

শীতকাল পাহাড় ভ্রমণের সবচেয়ে ভাল সময় বলে বিবেচিত হলেও পাহাড়ি প্রকৃতি তার আপন রূপের ঘোমটা খোলে বর্ষাকালে। বর্ষায় পাহাড় হয়ে ওঠে আরও সবুজ। পাহাড়ি ঝর্ণাগুলোয় দেখা যায় জলের উল্লাস। ফলে যারা পাহাড় আর ঝর্ণার বিশুদ্ধ রূপ দেখতে চান তাদের জন্য পাহাড় ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলো বর্ষাকাল। তবে ভরা বর্ষায় যারা পাহাড়ের রূপ উপভোগ করতে চান তাদের ভ্রমণের জন্য নিতে হবে বাড়তি কিছু প্রস্তুতি। বর্ষায় পাহাড় ভ্রমণকে আরো সুন্দর করতে কিছু সতর্কতামূলক টিপস থাকছে এই লেখায়।

১. রেইনকোট সাথে নিন। না হলে ভ্রমণে গিয়ে হোটেল রুমে বসে দিন কাটাতে হবে। এছাড়া ক্যাপ, ছাতা, চশমা সঙ্গে নিন। এগুলো আপনাকে বাড়তি সহায়তা দিবে।

২. বর্ষায় পাহাড়ে জোঁকের উপদ্রব ভয়ানকভাবে বেড়ে যায়। জোঁকের হাত থেকে বাচতে সঙ্গে গুল কিংবা লবণ রাখুন। আগে থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পায়ে কেরোসিন তেল লাগিয়ে নিতে পারেন। জোঁকে ধরলে আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে জোঁক ছাড়িয়ে ফেলুন।

৩. বর্ষায় পাহাড়ের খাড়া ঢাল অনেক পিচ্ছিল থাকে। এক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য চাই শক্ত গ্রিপ। ট্রেকিং জুতা পরে হাঁটুন। তবে কেউ যদি স্যান্ডেল পরে হাঁটতে চান সেক্ষেত্রে অ্যাঙ্কলেট বা নি ক্যাপকে স্যান্ডেলের উপর দিয়ে পরিয়ে দিন। এতে বেশ উপকার পাবেন।

৪. এক জায়গায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না। এতে মশা, জোঁক আপনাকে আরও আঁকড়ে ধরবে।

৫. বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় ম্যালেরিয়ার উপদ্রব হয়। ভ্রমণে বের হওয়ার সময় সাথে মশারি নিয়ে নিন। এছাড়া যেকোন ভাল মানের মশা তাড়ানোর ক্রিম সঙ্গে নিন।

৬. পাহাড় ভ্রমণে অধিক হাঁটতে হয়। এতে কওে আপনার উরুতে ঘা হতে পারে। ভালমানের ওয়েন্টমেন্ট ক্রিম সঙ্গে রাখুন।

৭. পাহাড়ি এলাকায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সঙ্গে রাখুন।

৮. ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকষ্মিক পাহাড়ি বন্যার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। সঙ্গে অবশ্যই একটি দড়ি নিন। ফ্ল্যাশ ফ্লাডের বা পাহাড়ি বন্যায় এই দড়িই আপনার জীবন রক্ষাকারী হতে পারে।

৯. পর্যাপ্ত পলিথিন, টর্চ, হেক্সিসোল, স্যাভলন, তুলা, ব্যান্ডেজ (সর্বপরি ফার্স্ট এইড) সঙ্গে রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *