
(মাহিন রহমান) ঘুরে বেড়াতে কে না পছন্দ করেন। অনেকেই ভ্রমণের জন্য তালিকা করে থাকেন। কোন কোন জায়গা দেখতে চান ঠিক করে রাখেন। তার কিছু হয়, আবার কিছু হয় না। বিভিন্ন কারণে হয়ে ওঠে না। আর কেউ কেউ থাকেন যেকোনো উপায়ে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টায়। তেমনই একজন তরুণী হলেন লেক্সি অ্যালফর্ড।

তিনি আমেরিকার নাগরিক। মাত্র ২১ বছর বয়সে সারাবিশ্ব ভ্রমণ করে ফেলেছেন। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ১৯৩টি। আর অ্যালফর্ডের ঘোরার তালিকায় রয়েছে ১৯৬টি দেশ। যে তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নামও। তার নিজের ওয়াবসাইটে বাংলাদেশ ভ্রমণের ব্লগ লিংক : An American in Bangladesh

সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বের সবগুলো দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন এই দুঃসাহসী তরুণী। এর মধ্য দিয়ে সবচেয়ে কম বয়সে বেশি দেশ ঘোরার বিশ্ব রেকর্ডটি দখলে নিয়েছেন তিনি। যা অনেকের ক্ষেত্রেই কল্পনা করাও অসম্ভব।

মাত্র ২১ বছর বয়সেই উত্তর কোরিয়া পর্যন্তও ঘুরে এসেছেন তিনি। আমেরিকার নাগরিক লেক্সির বয়স এখন ২৩ বছর। ছোটবেলা থেকেই ঘুরতে ভালোবাসতেন লেক্সি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মানুষের কথা না শুনে আমি আবেগকে অনুসরণ করেছি। যদিও আবেগ নিয়ে বাঁচা যায় না, তবে আমি সফল। নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কমিউনিটি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০১৬ সালে তিনি ঠিক করেন বিশ্বের সবগুলো দেশ ঘুরে দেখতে হবে। সে সময় তার বয়স ছিল ১৮। অবশ্য চিন্তারও তেমন কোনো কারণ ছিল না। কারণ ততদিনে ৭২টি দেশের আলো-বাতাস উপভোগ করে ফেলেছেন তিনি। পরের তিন বছরে বাকি দেশগুলো ঘুরে শেষ করেন।

এরপর স্বপ্ন দেখেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ নারী হিসেবে ১৯৬ দেশ ভ্রমণে বিশ্বরেকর্ড গড়বেন। ঠিক তাই করেছেন তিনি। তার ভ্রমণের বেশিরভাগই স্ব-অর্থায়নে ছিল। কারণ অল্প বয়স থেকেই লেক্সি তার স্বপ্নপূরণের জন্য কাজ ও সঞ্চয় শুরু করেছিলেন।

লেক্সির বাবা-মা ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ট্র্যাভেল এজেন্সি চালান। সেই সূত্রে বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে আগ্রহ জন্মে। শুরুটাও হয় সেখান থেকেই।

লেক্সি জানান, বাবা-মায়ের কাজের সুবাদে তাদের সাথেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লম্বা সময়ের জন্য তিনি অবস্থান করতেন। লেখাপড়াও হতো তাই সেভাবেই। ১৮ বছর বয়সে একটু গুছিয়ে নেয়ার সময়ই তার ভ্রমণের তালিকায় জমা পড়ে যায় বিশ্বের প্রধান প্রধান সব দর্শনীয় জায়গার নাম। এরপর থেকে শুরু করেন একা ঘোরা।

সারাবিশ্ব ঘুরে বেড়ানোর খরচ কীভাবে জোগালেন লেক্সি? এ বিষয়ে তিনি জানান, নিজের রোজগারেই সবকিছু করেছি। যখন যেমন কাজ পেয়েছি, সেটিই করেছি। ওই অর্থ দিয়ে পরের দেশটি ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছি। যতটা সম্ভব কম খরচে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছি। যতটুকু অর্থ লেগেছে ততটুকুই খরচ করেছি। এভাবেই সম্ভব হয়েছে।

পশুপাখির প্রতি রয়েছে লেক্সি অ্যালফর্ডের গভীর প্রেম। বিভিন্ন দেশে গিয়ে পশুপাখিদের সাথে সখ্য্যতা গোড়ে তোলেন তিনি।
ছবি : লেক্সি অ্যালফর্ডের ইন্সটাগ্রাম ও ইন্টারনেট।
https://shorturl.fm/MGIur