কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন : রোমাঞ্চকর নৌভ্রমণ

(মুখলিসুর রহমান মাহিন) এবার কক্সবাজার থেকে সরাসরি প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাওয়া যাবে। প্রায় ৯৫ কিলোমিটার (৫২ নটিক্যাল মাইল) নীল পানির সাগর পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার থেকে প্রতিদিন সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ নামের পর্যটকবাহী বিলাসবহুল জাহাজটি।

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। কিন্তু এই দ্বীপ ভ্রমণের বেলায় পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘ সড়কপথ পাড়ি দিয়ে টেকনাফ পৌঁছে এরপর জাহাজ ধরা ছাড়া বিকল্প ছিল না।

জাহাজ ছাড়ার স্থান ও সময়সূচি

❑ জাহাজটি কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়ারছড়ার বাঁকখালী নদীর বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
❑ এবং প্রতিদিন বিকাল ৩:৩০ এ সেন্টমার্টিন জেটি ঘাট থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
❑ সময় লাগবে ৫ ঘন্টার মত।

আসন বিন্যাস

কর্ণফুলী এক্সপ্রেসে একসঙ্গে ৫৪৭ জন ভ্রমণ করতে পারবেন। এতে চেয়ার রয়েছে ৫১০টি। ইকোনমিক আসনের চেয়ার (২য় শ্রেণি)। বিজনেস আসনের চেয়ার (১ম শ্রেণি) । জাহাজটিতে কেবিনের সংখ্যা ১৭টি। এর মধ্যে আছে সিঙ্গেল, ডাবল, ইকোনমিক ও ভিভিআইপি শ্রেণির।

❑ জাহাজটিতে রয়েছে প্রশস্ত কনফারেন্স হল রুম, ডাইনিং স্পেস, সি ভিউ ব্যালকনি।

❑ প্রতিবার যাত্রায় এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে থাকবে হালকা স্ন্যাকস/নাস্তা।

ভাড়ার তালিকা (আপ-ডাউন/যাওয়া ও আসা)

চেয়ারঃ
ইকোনমি ক্লাস (২য় শ্রেণি) : ৳২০০০
বিজনেস ক্লাস (১ম শ্রেণি) : ৳২৫০০

কেবিনঃ
সিঙ্গেল বেড : ৳৫,০০০
টুইন বেড : ৳৮,০০০
ভিআইপি : ৳১২,০০০
ভিভিআইপি : ৳২০,০০০

❑ প্রতিটি কেবিন ২ জন এর জন্য প্রযোজ্য, অতিরিক্ত জনপ্রতি ইকোনমি ক্লাস চেয়ারের (২য় শ্রেণি) আলাদা টিকেট সংগ্রহ করতে হবে।

❑ টিকেটে সংগ্রহ করার সময় ফেরার তারিখ উল্লেখ করে দিতে হবে।

টিকেট কোথায় পাবেন

কক্সবাজারের প্রায় সবগুলো ট্যুর অপারেটরের কাছেই কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের টিকেট পাওয়া যাবে। এছাড়া তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে চাইলে ফোন নম্বর: ০১৮৭০৭৩২৫৯০-৯৯

❑ জাহাজটির ফেসবুক পেজঃ MV Karnafuly Express

গতিপথ

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটের দূরত্ব ৯৫ কিলোমিটার (৫২ নটিক্যাল মাইল)। এতদিন পর্যন্ত টেকনাফ জেটিতে যেয়ে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে উঠতাম। কিন্তু কর্ণফুলী এক্সপ্রেস চালু হওয়াতে কক্সবাজার থেকে সরাসরিই সেন্টমার্টিনে যাওয়া যাবে। কক্সবাজারের উত্তর নুনিয়ারছড়ায় বাঁকখালী নদীর বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে কক্সবাজার এয়ারপোর্টের পেছনে নুনিয়ার ছড়া বিআইডব্লিউটিসি ঘাট থেকে উত্তর বাঁকখালী নদী হয়ে বঙ্গোপোসাগরে উঠবে জাহাজটি। এরপর মেরিন ড্রাইভের সাথে সমান্তরাল সমুদ্রপথ ধরে ৫ ঘন্টায় সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে। ফলে নীল পানির সমুদ্র উপভোগের পাশাপাশি দেখা মিলবে পাহাড়সারিরও।

জাহাজটির কিছু তথ্য

ঘণ্টায় প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটে চলার সক্ষমতা রয়েছে জাহাজটির। প্রায় ৫৫ মিটার দীর্ঘ ও ১১ মিটার প্রশস্তের জাহাজে মেইন প্রোপালেশন ইঞ্জিন হচ্ছে দুইটি। আমেরিকার বিখ্যাত কামিন্স ব্র্যান্ডের মেশিনগুলোর এক একটির ক্ষমতা প্রায় ৬০০ বিএইচপি করে।

উন্নত ও আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থার জন্য রয়েছে জিপিএস, ইকোসাউন্ডার, রাডার ও কম্পাস। রয়েছে অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা। জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়ার পাশাপাশি ইমারজেন্সি লাইফ সেভিং বোটসহ যাত্রীদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

দীর্ঘদিন এ উপকূলীয় পথে অভিজ্ঞ মাস্টার ও ক্রু দ্বারা জাহাজ টি পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুভ উদ্বোধন

৩০ জানুয়ারি ২০২০ নতুন জাহাজটির যাত্রা উদ্বোধন করে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে পর্যটনের নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হলো। একইসঙ্গে পর্যটকদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। সমুদ্রপথে ভ্রমণের সময় পাহাড়, নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করবেন তারা। ফলে কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো।’

ছবিঃ ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *