
এই তো গত বছর অফিসের কাজে গেলাম উত্তরের জেলা ঠাকুরগাওতে। সেখানে অফিসের বড় কর্তা বললেন চলুন আশেপাশের শাখা অফিসগুলোতে একবার চক্কর দিয়ে আসি। বললাম কেন নয়, যাওয়া যাক। যেই কথা সেই কাজ।
কথামত রবিবার সকাল দশটায় ঠাকুরগাও শহর থেকে বড়কর্তার ল্যান্ডক্রজারে চেপে রওনা দিলাম রানীশংকৈল, পীরগঞ্জ, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। পথে পথে যেসব শাখা অফিস পড়লো তার সবগুলোতেই একবার করে ঢুঁ মারা আর সেই সাথে বড়কর্তার সৌজন্যে আপ্যায়ন পাওয়ার সৌভাগ্য। বেশ দারুণই কাটছিল সময়টা। চকচকে পিচ ঢালা রাস্তা, রাস্তার ধারে সারি সারি সবুজ গাছ, মাঝে মাঝে ছোট শহর আর বাজার বাদ দিলে পুরো রাস্তার দুপাশে বিস্তৃর্ণ সবুজ ক্ষেত, রোদ ঝলমলে আকাশ আর হিমেল বাতাস যেন পরিবেশটা করে তুলেছিল স্বর্গীয়।

বালিয়াডাঙ্গী ছাড়বো এমন সময় বড় কর্তা বলে উঠলেন আপনি কি হরিণমারির আমগাছটা দেখেছেন? আমি বল্লাম কোন আম গাছ স্যার। তিনি উত্তর করলেন সে কি এই আমগাছ তো দেশের সবচেয়ে বড় আমগাছ। প্রায় দুই বিঘা জমিতে ছড়ানো একটাই আমগাছ। আমি মনে মনে ভাবলাম স্যার নিশ্চয় আমের বাগানের কথা বলছেন। দুই বিঘা জমিতে আবার একটা আমগাছ হয় নাকি!! সে কথা স্যারকে বলতেই বলে উঠলেন চলেন তাহলে দেখিয়েই আনি আপনাকে। বড় কর্তা গাড়িচালককে হেকিয়ে উঠলেন গাছের দিকে যেতে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শহর থেকে কিছুদূর একটা পাকা রাস্তা দিয়ে গিয়ে এসে পৌছালাম হরিণমারি (নয়াপাড়া) সেখানে একটা লোহার গেট লাগানো। ভিতরে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি দশ টাকা দিতে হবে। আমরা ড্রাইভার বাদ দিয়ে তিনজন ছিলাম। তিনটা টিকিট কেটে ভিতরে প্রবেশ করতে চোখ যেন চরক গাছ। একি আসলেই একটা গাছ!! গাছের গোড়া কোনটা শাখা কোনটা বোঝার উপায় যেন নেই। মনে হচ্ছে প্রত্যেকটা শাখায় যেন নতুন করে একেকটা গাছের আদল নিয়েছে। চোখে কিছুক্ষণ ধাতস্থ হতেই মজা পেতে শুরু করলাম। গাছের ডাল মাটিতে শুয়ে শুয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চারদিক আবার সাধারণ গাছের মতও চারপাশে, উপরে ডালপালা ছড়িয়েছে। সাধারণ একটা আমের গাছও যে দর্শনীয় হতে পারে এখানে না আসলে হয়তো জানতেই পারতাম না। স্যার যদিও বলেছেন দেশের সবচেয়ে বড় আমগাছ তবে আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ হয় এতো বড় আমগাছ বিশ্বে আর কোথাও আছে কি না।

হরিণমারি হাট থেকে অল্পদূরে মোঃ সাইদুর রহমান মোল্লা ও নূর ইসলাম এর বাড়ীর সাথে লাগানো জমিতে প্রায় দুইশত বছরের পুরনো এই আমগাছটি জাতে সূর্যাপুরী। এই জাতের আম দেশের অন্য জেলায় খুব একটা পরিচিত নয়। সাইজে ছোট কিন্তু বেশ মিষ্টি স্বাদ এর। মূলত ভারতের আসাম থেকে এর বীজ এসেছে আর ঠাকুরগাও ও পঞ্চগড় জেলায় আবাদ হচ্ছে।
এমন একটা স্মৃতিকে ক্যমেরাবন্দী না করে তো আর ফেরা যায় না। তাই কাজের ফাঁকে যতক্ষণ পারা যায় ছবি তুললাম বড়কর্তাকে নিয়ে। এরপর চার চাকায় আবারো রওনা দিলাম ঠাকুরগাও শহরের দিকে। কিন্তু মনের মধ্যে রয়ে গেল সেই বিশ্ময় একটাই গাছ ছিল তো!
লেখক : সুয়াইব আল বাকার, সম্পাদক, অভিযাত্রী
Spot on with this write-up, I truly believe this website needs a great deal more attention. I’ll probably be returning to read through more, thanks for the info!|